মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

রাজশাহী কলেজ

  • সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
  • প্রতিষ্ঠাকাল
  • ইতিহাস
  • প্রধান শিক্ষক/ অধ্যক্ষ
  • অন্যান্য শিক্ষকদের তালিকা
  • ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা (শ্রেণীভিত্তিক)
  • পাশের হার
  • বর্তমান পরিচালনা কমিটির তথ্য
  • বিগত ৫ বছরের সমাপনী/পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল
  • শিক্ষাবৃত্ত তথ্যসমুহ
  • অর্জন
  • ভবিষৎ পরিকল্পনা
  • ফটোগ্যালারী
  • যোগাযোগ
  • মেধাবী ছাত্রবৃন্দ

শিক্ষানগরী হিসেবে রাজশাহী মহানগরীর গোড়াপত্তন হয় ১৮২৮ সালে ‘বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি তদানীন্তন পূর্ব বাংলায় আধুনিক শিক্ষার ইতিহাসে পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছিল। মূলত ইংরেজি শিক্ষার প্রতিস্থাপনা ও প্রসারকল্পে সে সময় রাজশাহীতে কর্মরত ইংরেজ কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় -‘বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল’। সেদিনের সে ক্ষুদ্র ‘বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল’ ১৮৩৬ সাল থেকে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিত। সে স্কুলের ছাত্রদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তরবঙ্গের সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কলেজ, রাজশাহী কলেজ।

রাজশাহী শহরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৮৭২ সালে দুবলহাটির রাজা হরনাথ রায় চৌধুরী তাঁর জমিদারির একটি সম্পত্তি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলকে দান করেন যার বাৎসরিক আয় ছিল প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। ১৮৭৩ সালে সরকার এটিকে একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজে উন্নীত করার অনুমতি প্রদান করেন। একই বছর ৫ জন হিন্দু ও ১ জন মুসলিম ছাত্রসহ মাত্র ছয় জন ছাত্র নিয়ে কলেজিয়েট স্কুলের সঙ্গে চালু হয় উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর সমমানের এফ. এ. (ফার্স্ট আর্টস) কোর্স।

ক্রমবর্ধমান সাফল্য ও খ্যাতির কারণে ১৮৭৫ সালেই কলেজটিকে প্রথম শ্রেণীর কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়। রাজশাহী এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে তৎকালীন দীঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথ রায়ের এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার সময়োচিত দান এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সহায়তা করে। ১৮৭৮ সালে কলেজটি প্রথম শ্রেণীর কলেজের অনুমোদন পেয়ে বি.এ. শ্রেণীর পাঠদান শুরু করে।

রাজশাহী শহরে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ভূস্বামী রাজা, জমিদার এবং বিত্তশালীদের ভূমিকা ছিলো উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে দুবলহাটির জমিদার হরনাথ রায় চৌধুরী, দীঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথ রায়, রাজা প্রমোদ রায় ও বসন্ত রায়; পুঠিয়ার রাণী শরৎসুন্দরী দেবী ও হেমন্তকুমারী দেবী; বলিহারীর কুমার শরবিন্দু রায়; খান বাহাদুর এমাদ উদ্দীন আহমেদ, কিমিয়া-ই-সাদাত-এর অনুবাদকমীর্জা মোঃ ইউসুফ আলী, হাজী লাল মোহাম্মদ, নাটোরের জমিদার পরিবারের খান বাহাদুর রশীদ খান চৌধুরী, খান বাহাদুর এরশাদ আলী খান চৌধুরী ও বঙ্গীয় আইন পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার আশরাফ আলী খান চৌধুরী ছিলেন অগ্রগণ্য। এছাড়াও নাটোরের খান চৌধুরী জমিদার পরিবার রাজশাহী শহরের হেতম খাঁ এলাকার তাঁদের পারিবারিক বাসস্থান ‘চৌধুরী লজ’ রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত প্রায় বিশ জন গরীব মুসলমান ছাত্রের জন্য বিনা ভাড়ায় থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তদানীন্তন পশ্চাৎপদ মুসলমান সমাজের শিক্ষার উন্নয়নে তাদের এই ভূমিকা ছিলো তাৎপর্যপূর্ণ।

একটি প্রথম শ্রেণীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজশাহী কলেজ শুরু থেকেই অতি দ্রুত প্রসিদ্ধি লাভ করতে থাকে। ১৮৭৮ সালেই কলেজে মাস্টার্স কোর্স খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়। ক্রমোন্নতির ধারাবাহিকতায় ১৮৮৩ সালে চালু হয় বি.এল. ক্লাস। আনুমানিক ১৮৮৪-৮৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজে অনার্স কোর্স চালু থাকলেও ১৯০৯ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন আইনে মাস্টার্স কোর্স ও বি.এল. কোর্সের অধিভুক্তি বাতিল করা হয়। এই পদক্ষেপটি তদানীন্তন পূর্ববাংলায় ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা সংকোচন নীতির অংশ প্রতীয়মান হয়।

১৮৭৩ সালে মাত্র ছয় জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরুকরলেও অতিদ্রুত সব অনিশ্চয়তা ও প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে কলেজটি দেখা পায় সোনালী ভবিষ্যতের। ১৮৭৮ সালেই এর ছাত্রসংখ্যা একশতে উন্নীত হয়। প্রতিবছরই ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০০ সালে দুইশ, ১৯১০ সালে চারশ এবং ১৯২৪ সালে তা এক হাজার জনে উন্নীত হয়। বর্তমানে কলেজের ছাত্রসংখ্যা প্রায় পঁচিশ হাজার।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে রাজশাহী কলেজের কোন নিজস্ব ভবন ছিল না। রাজশাহী এসোসিয়েশন এর নেতৃবৃন্দ কলেজের প্রথম ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। একজন দক্ষ ইংরেজ প্রকৌশলীর পরিকল্পনায় ১৮৮৪ সালে একষট্টি হাজার সাতশ টাকা ব্যয়ে বর্তমান প্রশাসন ভবনটি নির্মিত হয়। গাঢ় লাল বর্ণের দোতলা ভবনটি কালের গ্রাস জয় করে নগরীর প্রধান ও প্রাচীনতম সড়কের পাশে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে । এর পর একে একে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসস্থল, অধ্যক্ষের বাসভবন। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজশাহী কলেজে গড়ে উঠেছে পাঁচটি বিজ্ঞান ভবন, দুইটি কলাভবন, ইংরেজি বিভাগের জন্য একটি পৃথক ভবন; পুকুরের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ‘গ্যালারি ভবন’। ‘গ্যালারি ভবন’ ১৮৮৮ সালে নির্মিত হয়ে প্রথমে রাজশাহী মাদ্রাসা নামে এবং পরে ১৭ নং গ্যালারি হিসাবে পরিচিতি পায়। প্রখ্যাত দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসীন-এর আর্থিক অনুদানে নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে ‘হাজী মুহম্মদ মহসীন ভবন’ নামে পরিচিত। ১৯০৯ সালে নির্মিত হয় কলেজের অন্যতম একটি সুন্দর স্থাপনা ‘মোহামেডান ফুলার হোস্টেল’। বর্তমানে ভবনটি কলেজের বাংলা, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, উর্দু, সংস্কৃত, দর্শন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি বিভাগের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কলেজের সম্মুখ চত্বরে আছে একটি শহীদ মিনার এবং শহীদ মিনারের পশ্চিমে অবস্থিত লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়াম ভবন।

খরস্রোতা পদ্মা নদীর উত্তরে হযরত শাহ মখদুম (রহঃ) এর মাজার-এর পূর্ব পাশে নির্মিত হয় অধ্যক্ষের দোতলা বাসভবন। এই ভবনটিতে উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদগণ বসবাস করে গেছেন। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মহোদয়ও এখানে বসবাস করছেন। ব্রিটিশ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ভবনটি এখনও স্বমহিমায় অক্ষত রয়েছে। অধ্যক্ষের বাসভবনের পূর্বপ্রান্তে শিক্ষকদের জন্য রয়েছে দুটি তিন তলা আবাসিক ভবন। ছাত্রদের জন্য বিভাগপূর্ব কালে ছয়টি ব্লক নিয়ে একটি ছাত্রাবাস নির্মিত হয়। বিভাগোত্তর কালে এই ছাত্রাবাসের আরেকটি ব্লক নির্মিত হয়। কলেজের উত্তর দিকে দুটি ছাত্রীনিবাস নির্মিত হয়েছে।

২০টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণীতে পাঠদানের মতো উচ্চশিক্ষার এক ব্যাপক আয়োজনের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ভৌত অবকাঠামো নিতান্তই অপ্রতুল। কলেজে বৃহৎ পরিসরের একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি স্বতন্ত্র বাণিজ্য ভবন সহ আরো কয়েকটি একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে এর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে লাঘব হবে। কলেজ প্রশাসন এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

যে সকল প্রথিতযশা শিক্ষাবিদের অবদানে রাজশাহী কলেজের ঐতিহ্য সমুন্নত হয়েছে তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক শ্রী কুমার ব্যানার্জী, অধ্যাপক সুনীতি কুমার ভট্টাচার্য, ড. পিভি শাস্ত্রী, ড. কুদরত-ই-খুদা, হুমায়ুন কবির (সাহিত্যিক-রাজনীতিক), অধ্যাপক আবু হেনা, অধ্যাপক সৌরেন মজুমদার, অধ্যাপক ক্ষেমেশচন্দ্র দে, ড. স্নেহময় দত্ত, অধ্যাপক বি.সি. কুন্ডু, ড. গোলাম মকসুদ হিলালী, জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, ড. এ আর মল্লিক, প্রফেসর এম. শামস্ উল হক (প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ড. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন, ড. এম. এ. বারী, ড. কাজী আব্দুল মান্নান, ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ। অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী রাজশাহী কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করে পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান হয়েছেন তাঁদের মধ্যে শ্রী রাধিকা মোহন মৈত্র, প্রমথনাথ বিশী, স্যার যদুনাথ সরকার, অক্ষয় কুমার মৈত্র, কবি রজনী কান্ত সেন, কাজী মোতাহার হোসেন, খান বাহাদুর এমাদউদ্দীন আহমদ, মীর্জা গোলাম হাফিজ, ড. কাজী আব্দুল মান্নান, ড. মযহারুল ইসলাম, ডাঃ গোলাম মওলা, বিচারপতিবদরুল হায়দার চৌধুরী, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, ঋত্বিক ঘটক (প্রখ্যাত চলচিত্র পরিচালক), আনোয়ার পাশা, ড. এবনে গোলাম সামাদ, ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, ড. ওয়াজেদ আলী মিয়া (পরমানু বিজ্ঞানী) ও নাজমা জেসমিন চৌধুরী স্মরণীয়।

রাজশাহী কলেজে বরাবরই শিক্ষার মান উন্নত ছিল এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত আছে। কলেজের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের সাফল্য কলেজের উন্নত শিক্ষামানের সাক্ষ্য বহন করে। উল্লেখ্য, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূব পর্যন্ত তদানীন্তন পূর্ববাংলায় একমাত্র রাজশাহী কলেজেই স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে পাঠদান করা হতো। সে সময় অবিভক্ত বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও আসাম, বিহার ও উড়িষ্যার থেকে শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের জন্য আসতেন। শুধু তাই নয়, অবিভক্ত ভারতবর্ষে রাজশাহীর পরিচয় ছিল রাজশাহী কলেজের নামে।

শতাব্দী প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানটি কেবলমাত্র শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং পন্ডিত ও গবেষকদের জন্য এক অনন্য গবেষণাক্ষেত্র হিসাবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ইতোমধ্যে গবেষক ডক্টর মোঃ মনজুর কাদির নর্থবেঙ্গল ইউনিভার্সিটি, ভারত থেকে রাজশাহী কলেজের ওপর “Progress of Higher Education in Colonial Bengal and After—A Case Study of Rajshahi College (1873-1973)”শিরোনামে গবেষণাকর্ম সম্পাদন করে পি-এইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে বেশ কয়েকজন গবেষক শিক্ষা বিস্তারে রাজশাহী কলেজের ভূমিকা প্রসঙ্গে গবেষণারত আছেন। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের খ্যাতিমান অধ্যাপক এবং কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু হেনা তাঁর Reaction and Reconcilementগ্রন্থে রাজশাহী কলেজকে উল্লেখ করেছেন রাজশাহীর গর্ব হিসেবে।

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল
প্রফেসর মোহা. হবিবুর রহমান 0 rajshahicollegebd@gmail.com

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল

৭৭৫৪৭৫(অধ্যক্ষ),৭৭৬০৯৪(উপাধ্যক্ষ),৭৭০০৮০(অফিস),৭৭০০৬৭(পরীক্ষা শাখা),৭৭৪৪০৯(লাইব্রেরী)

ফ্যাক্স:০৭২১-৭৭১৫১১

ই-মেইল:rajshahicollegebd@gmail.com

ওয়েব সাইট:www.rc.edu.bd